!!মরীচিকা!!

তক্ষণ গল্প করলাম দুজন তবুও যেন আশই মেটেনা। আসলে তুমি দূরে চলে গেলেও মনের ভিতরটা ফাঁকা  হয়ে যায়। হু হু করে মন। বিপিনদার কোচিং এর নাম করে পাড়া থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে সেই দুজনের প্রেম। সেদিনের কথা বলতে গিয়ে হেসে ফেললাম আমি। আর তুমিও আমাকে দেখে হেসে ফেললে। এখনও সেই ঝকঝকে হাসি। লোকে বলে বয়সের ভারে ধীরে ধীরে নাকি সব পরিবর্তন হয়। সব মিথ্যে। কই তুমি তো বদলাওনি। হ্যাঁ , চুলে বয়সের রঙ ধরেছে বটে, ও…আবার কার না থাকে? আমারও চুলে বয়েস তার রঙ লাগিয়েছে অনেকদিন । কখনো কি ভেবেছিলাম এই ৬০ বছর বয়েসে আমার ৬৫র অনিন্দ্যকে  এত কাছে পাবো। আবারও সেই আগেকার মত সবার আড়ালে আমাদের দেখা। এই পার্কের কথা মনে আছে তোমার? সেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে এই অর্জুন গাছে তোমার আমার নামের প্রথম অক্ষর ভালোবেসে খোদাই করেছিলে। বলেছিলে ভালোবাসার এক একটা অধ্যায় এখানে সেলিব্রেট করবো আমরা। সেই বর্ণময় জীবন পাওয়াই হলো না আমার। চোখের সামনে তোমাকে অন্যের সিঁথিতে সিঁদুর পড়াতে দেখে  বিশ্বাস করো আজও আমার মন কাঁদে। মৃত্যু শয্যাশায়ী বাবার কথা রাখতে বিয়ে করতে হয়েছিল তোমায়। সবই আমার ভাগ্য। আমারও বিয়ে হল  বটে একটা মেয়ের জন্ম দিলাম  তবে মন থেকে নয় । যাই হোক এখন আমি ঝাড়া হাতপা। আগের বছরই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলো ব্যাঙ্গালোরে। লিভ-ইন রিলেশনশিপে থাকার পর বিয়ে করে তারা। ওরা ওদের সম্পর্ক নিয়ে ছিল অনেক সাবলীল। জানত কাল ফোন করেছিল। আমার খোঁজ নেয়, ভালো আছে ওরা। এই পুজোতে আসবে দুজনে। তোমার সাথে ওদের দেখা করাতে খুব ইচ্ছে হয় কিন্তু!!!!!!

পার্কের চারিদিকে এত অল্প বয়সের ছেলেমেয়েদের ভিড়ের মাঝে দুই বুড়োবুড়ির প্রেমালাপ। এই…তুমি হাসছো? দূর …..আমার কি লজ্জা হয়না ,তুমি না সত্যি……। আচ্ছা অনিন্দ্য, লিভ -ইন রিলেশন তোমার ভালো লাগে? জানত এখনকার ইয়ং ছেলেমেয়েরা বেশ সাহসী। তারা নিজেদের ভালোমন্দ খুব বোঝে। এযুগের প্রজন্মেরা বিয়ে সরিয়ে লিভ -ইন থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। খুব ভালো লাগে এটা ভাবতে যে অনিচ্ছা সত্বেও বিয়ের মন্ত্র উচ্চারণে জীবনসঙ্গী  না বেছে শুধুমাত্র নিজের মত করে ভালোবাসায় মাখামাখি জীবন চায় তারা।
এখানে শরীর নিয়ে কোনো ছুতমার্গ নেই, নেই কোনো লুকিয়ে রাখার ভয়। খুব সহজে অবলীলায় দুজন দুজনের কাছে থাকে সাদা কাগজের মতন। যেখানে ভালোবাসাই পরিচয়। তথাগঠিত সমাজ আজ আর লিভ-ইনে লজ্জা পায় না।
তুমি বলবে ,এটা এক মরীচিকা পিউ, এতে ভয় আছে ….আছে ঝুঁকি । কিন্তু আমি বলবো ঝুঁকি কোথায় নেই শুনি?সবকিছুতেই ভয়। আসলে কাউকে মন থেকে ভালোবাসলে থাকে ঝুঁকি। আমরা যেটা পারিনি ওরা সেটা পারে।
বিকেল পাঁচটা তোমার সাথে আমার দেখা করা এটাও তো  এক ঝুঁকি। একি তুমি চুপ কেন অনিন্দ্য।? আমরাও কি পারিনা ওদের মত থাকতে? সব কিছু সরিয়ে শুধু তুমি আর আমি। চলো না অনিন্দ্য………। একি!!!!!!!!!!!তুমি হাত ছাড়িয়ে নিল যে? কোথায় যাচ্ছ তুমি? অনিন্দ্য!!!!!!কোথায় হারিয়ে যাচ্ছ? অনিন্দ্য!!!!! চলে এসো । যেও…. না আমায় ফেলে যেওনা……..অনিন্দ্য!!!!!!। আচমকা মেয়ের ফোনে  কাটলো ঘোর। পিউ-র স্বপ্নে আজও অনিন্দ্য এক মরীচিকা।
-মহুয়া

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *