প্রতিশোধ-REVENGE

“এই মালটা কে রে?,পুরো সলিড পিস” ,প্রশ্ন ছুঁড়ে নীহারের দিকে তাকিয়ে অমিত।

“নিকা ,কলেজের নতুন আইটেম”

“হুম,নতুন ,তাহলে তো দেখতে হচ্ছে”
“আবার দেখবি?”
“তোকে তো অনেকবার দেখলাম,এবার
ওকে একটু দেখি”,নীহারের কোমড়
জড়িয়ে হাসতে হাসতে বলে বিজন।
আজ সকাল থেকে সিটি মেডিক্যাল কলেজ বেশ সেজে উঠেছে। কলেজ ফ্রেশর্স।অমিত,বিজন, নীহার ,রনি, ওমপ্রকাশ  ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট,এরা এদিকে যেমন ব্রিলিয়ান্ট, ঠিক তেমনি সিদ্ধহস্ত রাগিং -এ।
রাত দুটো। এজি স্যারের ক্লাস। নিকার তলব পরে কলেজের পিছনের মর্গে। মেদিনীপুর থেকে আসা নিকা আসে মর্গে। চারিদিকে সাদা কাপড় জড়ানো মৃত মানুষের সারি। দেখে ভয় পেলেও মনে সাহস যুগিয়ে ঘরে ঢোকে নিকা। বন্ধ হয়ে যায় ঘরের দরজা। হঠাৎ মৃত সারির মাঝখানে উঠে বসে এক দেহ। দরজা হয়ে যায় বন্ধ , নিভে যায় আলো। তারস্বরে চিৎকার নিকার। ঘরের বাইরে নিজেদের প্ল্যান মতোই সব কিছু হচ্ছে দেখে উচ্ছাসিত নীহার ,রনিরা। টানা পাঁচঘন্টা কেটে গেলেও নিকা আর মৃতদেহ সাজা অমিতের কোনো শব্দ না পাওয়ায় আলো জ্বালিয়ে দরজা খুলতেই শিউরে যায় তারা । দরজার এক কোণে পড়ে রয়েছে অমিতের দেহ আর দেহ খুবলে খাচ্ছে নিকা। নিকার দিকে তাকাতেই ভয় পেয়ে যায় সবাই। বাইরে থেকে ঘর বন্ধ করে সেখান থেকে পালায় তারা।
“না এটা হতে পারে না , ও……….ও
কি করে ?” ,জলের ঝাঁপটায় নিজের দেখাকে কিছুতে ভুলতে পারছেনা নীহার।
“আমি তো সেটাই ভাবছি, না না ওকে  তো আমরা………….” ,শীতের রাতে দরদর করে ঘামছে ওমপ্রকাশ।
 ” হ্যাঁ আমরা। শালীর বড্ড তেজ ছিল। বলেছিল সবাইকে বলে দেবে, ওকে না মারলে তো আমরা খতম হতাম”, উচ্চস্বরে বলে ওঠে বিজন।
“কিন্তু এবার কি হবে ভাই, অমিতের মতন কি আমরাও…………….. ” ভয়ে কেঁদে ফেলে রনি।  রাত তিনটে। মেসের ঘরে ওমপ্রকাশ ,রনি , নীহারকে রেখে আবার মর্গের দিকে বিজন।
“আদৌ নিকা কি সে ? না ………… কি করে হবে? ও তো ………….এ…………..এনা” ,তাহলে………….. ” নিজের মনে বিড়বিড় করতে করতে মর্গে ঘরের ভিতর ঢুকে অবাক বিজন। অমিতের দেহ নেই ,নেই নিকাও। নিভে যায় মর্গের আলো । চারিদিকে অট্টহাসি।
“কে ? কে…..?”
অট্টহাসি ক্রমে ক্রমে পরিণত হয় কান্নায়।
“কে ………কে তুমি ? স্পিক আউট ইউ ব্লাডি স্বয়াইন………… ” বিজনের চিৎকার। আরো জোরালো হয় কান্নার শব্দ। জ্বলে ওঠে আলো। বিজন দেখে তার সামনে বসে কাঁদছে নিকা।
“নিকা !!!!! নিকা!!!!!!!!!!! , তুমি ?”,
“হুম” ,ওপাশ থেকে মাথা নাড়িয়ে কান্না ভেজা স্বর সম্মতি জানায়।চোখেমুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট বিজনের। আসতে আসতে এগোয় নিকার কাছে। ভয়কে চেপে সামনে এসে বিজন দেখে বিভৎস মুখ। নিকার বদলে এনা রয়েছে বসে। সঙ্গে অট্টহাসি।
“এ……….এ….এনা,তু ……তুমি কি করে?”
“চিনতে পারলে” , আবারও অট্টহাসির রোল।
“এবার তুমি”, কর্কট স্বরে ভেসে উঠলো চারিদিক। নিভে যায় আলো।
“আ…আ……………..”
খুলে গেল মর্গের দরজা। জ্বলে যায় আলো। গলায় ইলেকট্রিক তার পেঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে
           বিজনের দেহ।
নীহার অনুরোধ না শুনে বিজনকে খুঁজতে রনি আর ওমপ্রকাশ মেসের ঘর থেকে মর্গের দিকে এগোয়। হালকা গানের শব্দ ভেসে আসছে মর্গ থেকে ।
“কি ব্যাপার বলতো? মর্গে গাইছে কে?”, রনিকে প্রশ্ন ওমপ্রকাশের।
“সেই তো, শালা বিজন…….মাল নিয়ে ফুর্তি করছে, আর আমরা শালা এদিকে বেকার চুপসে আছি, নিকাকে নিয়ে একাই মস্তি করবে , ফা#####”, হাসতে হাসতে দুজনে ছুটে যায় মর্গের দিকে। ঘরে দাড়িয়ে নিকা। গুনগুন করে গাইছে সে। ঘরের দরজা বন্ধ করে নিকার দিকে এগিয়ে যায় তারা। নিকাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা।
“বড্ড জ্বালিয়েছিস তুই, এবার দেখ তোরও কি হাল করি”, নিকার  সামনে রনি -ওমপ্রকাশ। নিকা তখনও চুপ,সাথে অনবরত গুনগুন । কিছু বোঝার আগেই স্ক্যাল্পেল ব্লেড গলার নলিতে। শেষ দুজন।
“উফ্ !!!!!! কোথায় এরা ? আসছে না কেন? “, একা অপেক্ষারত নীহার।
“কেন করলি, তুই কেন করলি”, চাপা গলা নীহারকে বলে ওঠে। পিছনে ঘুরেতেই নিকা দাঁড়িয়ে
“দরজা বন্ধ ভিতর থেকে, তাহলে ও এলো কি করে?”নিজের মনেই প্রশ্ন নীহারের।
“আমার সাথে কেন ?” কান্না জড়ানো শব্দ।
নীহার চুপ,ভয়ে হাতপা ঠান্ডা তার।
“কে…….. কে  তুমি? নি…. নিকা!!!!!!!!”
না………. এনা, জানলার পাশে দাঁড়িয়ে গম্ভির গলায় বলে ওঠে নিকা।
নীহার লক্ষ করে ওর পিছনে কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে । পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখে এনা। ভয়ে পালানোর চেষ্টা নীহারের। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলেও কিছুতেই পারে না সে। চারিদিকে হাসির রোল। ভয়ে জানলা দিয়ে ঝাঁপ দেয় নীহার। মুহুর্তের মধ্যে সব শেষ। জানলায় তখনও দাঁড়িয়ে হাসছে নিকা আর তার পাশে এনা।
তিন বছর আগে, এনা ছিল সিটি মেডিক্যাল কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। কলেজ ফ্রেশর্স-এ রাগিংয়ের প্রতিবাদ করেছিল এনা। প্রথম থেকে এনা হয়ে  যায় অমিত, নীহার,রনি,ওমপ্রকাশ,বিজনদের টার্গেট। প্ল্যান মতোই বিজন প্রথমে এনার সাথে করে বন্ধুত্ব। ক্রমে ক্রমে গভীর বন্ধুত্ব পরিণত হয় ভালোবাসায়। বিজনের সাথে ঘরবাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এনা। এক বিশেষ কারণে  রাত দুটোয় মর্গে বিজনের সাথে দেখা করতে হবে এনাকে,নীহার মারফত খবর পাঠানো হয় এনার কাছে। রাত দুটো, এনা আসে মর্গে। মর্গের ঘরে বিজন দাঁড়িয়ে।
“কি ব্যাপার, এখন এখানে ডাকলে? কি হয়ছে?”
“বলছি ডিয়ার, এত তাড়াতাড়ি কেন? সবে তো শুরু…………”
শুরু??????????? কিসের?এনার প্রশ্ন শেষ হতে না হতে ঘরের দরজা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রনি, ওমপ্রকাশ, নীহার,অমিত। উচ্চস্বরে হাসি রোল।
“কি ব্যাপার তোমরা????? বিজন কি হয়ছে ?????”
“চুপ শালী, তোর বেশি তেজ না ,মহান হতে চেয়েছিলিস তাই না, এবার দেখ , আমাদের সাথে পাঙ্গা নেবার ফল……” এনার মুখ চেপে ধরে রনি। চলে ধর্ষণ।
“সবাইকে বলে দেবো ” জানায় প্রতিবাদী এনা।
খবর জানাজানি হবার আশঙ্কায় স্ক্যাল্পেল ব্লেড চলে গলার নলিতে ,এরপর ইলেকট্রিক তার পেঁচিয়ে খুুন করা হয় এনাকে। মর্গে পুঁতে দেওয়া হয় দেহ। বোন নিকার হাত ধরে শেষ হয় এনার প্রতিশোধ। নিজের মৃত্যুর শাস্তি দেয় এনা ।
– মহুয়া

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *