শৈশবে থাবা যৌন নিগ্রহ-SEXUAL ASSAULT

যৌনাঙ্গ কি? আমার আছে মা ? পাঁচ বছরের মেয়ের এমন প্রশ্নে হতবাক শীলা। হতবাক নলিনীও, আট বছরের তৃষা এখন বুঝতে পারে সমরদাদু কেন অছিলায় তার গোপন অঙ্গে হাত দেয় । এঘটনা এখন আর নতুন কিছু না। রোজই খবরের কাগজ হোক কিংবা টেলিভিশন যৌন নিগ্রহের খবর আজ রোজনামচা । শুধুমাত্র মেয়েদের নিগ্রহ নয় ছেলেমেয়ে নির্বিশেষ যৌন নিগ্রহের শিকার । এ এক মরণব্যাধি ,ক্রমে গ্রাস করছে শৈশবকে । স্কুলের গণ্ডি ,খেলার মাঠ অথবা বাড়ির চারপাশে হেসেখেলে বেড়ানো উচিত যাদের তারাই এখন আতঙ্কে বাড়ির অন্দরমহলে । চারিদিকে মানবদ্বৈতের যৌন লালসার ভিড়ে অসহায় তারা ।

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো এইসব দ্বৈতধারী মানুষদের শাস্তি কি? আর কতদিন এইসব ছোট্ট ছোট্ট শৈশব যৌন লালসার শিকার হবে? কবে সমাজ এই মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পাবে? প্রশ্ন অনেক কিন্তু উপায় অজানা ।  যদিও আজকাল বেসরকরি স্কুলে “গুড টাচ ,ব্যাড টাচ”- এর মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে । বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুদের সজাগ করা হচ্ছে । নিরাপদে থাকতে ছোট্ট মনকে  চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি দায়িত্ব ভার। আচ্ছা ,শুধু বহির জগতে দৃষ্টিপাত করলে সমস্যার সমাধান হবে কি ? নাকি সমস্যা আরো গভীরে ? হ্যাঁ ,সমস্যা আরো গভীরে । যাদের আঁচলে তারা নিরাপদ বোধ করে সেখানেও বিপদ । এর কারণ বাবামায়ের উদাসীনতা । একটি শিশু যখন তার মা-বাবার কাছে প্রথম যৌন নিগ্রহের কথা জানায় তখন সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাকে এটা বোঝানো হয় অত্যাধিক টেলিভিশন বা খারাপ বন্ধুর সঙ্গদোষে তার এসব আচরণ। কিংবা জানাজানি হলে সোসাইটিতে নিজের মুখ লুকাতে না হয় তার জন্য ঘৃণ্য মানুষদের কাছে তাদের অনায়াসে ঠেলে দেওয়া হয়। আসলে পরিবর্তন আনতে হবে সবার । পরিবর্তন আনতে হবে মানুষিকতার। এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে । নির্মূল করতে হবে যৌন লালসার মত মরণব্যাধিকে । নিজেদের সন্তানদের পাশে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার সু-প্রশিক্ষণ দিতে হবে তবেই ছোট্ট শৈশব প্রজাপতির মতনই পাখা মেলে মুক্ত দিগন্তে উড়ে যেতে পারবে।

-মহুয়া চক্রবর্তী  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *