Download!Download Point responsive WP Theme for FREE!

বৃষ্টি-RAIN DROPS

“আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা
                বাতাস জুড়ে বৃষ্টি
 গাছের পাতা কাঁপছে আহা
          দেখতে কি যে মিষ্টি ।।“
                 –    কবি নির্মলেন্দু গুন  


বৃষ্টি-এ যেন সত্যি প্রকৃতির অনোন্য সৃষ্টি।বৃষ্টির সাথে আমাদের সকলেরই কম-বেশি স্মৃতি জড়িয়ে থাকে।সে স্কুলজীবনে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরাই হোক কিংবা ছাদে গিয়ে খোলা আকাশের নীচে ভেজা। বৃষ্টি নিয়ে যেমন সুন্দর গানও রয়েছে ঠিক তেমনই আছে কবিদের লেখা।নব্বই দশকের রাহুল দেব বর্মনের রচিত লতা ও কিশোরের কণ্ঠে ‘রিমঝিম গিরে সাওন’ গানটি আজও যেন বেজে ওঠে রেডিও কিংবা মোবাইলে।
প্রখর তাপে মানুষ যখন ক্লান্ত তখন মেঘের ঘনঘটা ও বিদ্যুতের বাজবিজুলী যেন ক্লান্ত দেহকে একটু আরামের আশা জাগায়।আর ঠিক তখনই নামে বৃষ্টি।কথায় আছে, তানসেন যখন মেঘ-মল্লার রাগের ওপর গান গাইলে প্রকৃতি তখন আর মুখভার করে না থেকে বৃষ্টি নামাত।তাই বৃষ্টি পরিবেশে দানস্বরূপ।
বৃষ্টি ভেজা শহরে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দেওয়াও যেন আলাদা ধরনের উপভোগ করা।আবার বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় ছাতা মাথায় পাশে সঙ্গীকে নিয়ে হাঁটার মধ্যে রয়েছে রোমান্টিকতার ছোঁওয়া।
বৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হবে আর সাথে খাওয়া-দাওয়ার কথা হবে না এ যেন জল ছাড়া জীবন।তাই বৃষ্টি মানেই খিচুরী-পাপড় ভাজা কিংবা রাস্তার পাশে দোকানের গরম সিঙাড়া বা আলুর চপ। রাতের অন্ধকারে জানালার কাঁচে থাকা জল যেন আবছা হয়ে পড়ে।পুরাতন সেই গান আর হাতে গল্পরে বই-দুই যেন বৃষ্টি ভেজা রবিবারের অবসর সময়ের একান্ত সম্বল।
বৃষ্টি একদিকে যেমন আনন্দ জাগায় আবার অন্যভাবে দেখলে বৃষ্টি ভেজা বর্ষাকালে সমস্যার সম্মুখীন হয় শহরের নিত্য যাত্রীরা। উত্তর কলকাতার গিরীশ পার্ক থেকে শুরু করে দক্ষিন কলকাতার গড়িয়া এবং মধ্য কলকাতার ধর্মতলা ও পার্কস্ট্রিট সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় থাকে জমা জল যা অনেক সময়েই দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবুও বৃষ্টিকেই পেতে চায় এই অক্লান্ত শহর ও মানুষজন।ক্লান্ত পাখিরাও যেন বৃষ্টি ভেজা শরীরে উড়ে যায় অদূর প্রান্তে।
 “যাও পাখি বলো হাওয়া ছলছল
                                    আবছায়া  জানলার কাঁচ।“
                                                                            – অন্তহীন

-মৌমিতা দাস

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *