FILM REVIEW-DEKH KEMON LAGE

সিনেমা- দেখ কেমন লাগে
পরিচালক- সুদেষ্ণা রায় এবং অভিজিৎ গুহা
কলাকুশলী- সোহম চক্রবর্তী, শুভশ্রী গাঙ্গুলি ,নীল মুখোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা রায়।
রেটিং- ৩•৫/৫

            এই বছরই মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘আমার আপনজন’ এ অভিনয়ের পরে আবার একসঙ্গে জুটি বাঁধতে দেখা গেল সোহম ও শুভশ্রীকে। পরিচালক সুদেষ্ণা  রায়ের ‘দেখ কেমন লাগে’ সিনেমাটি মূলত কমেডিকেন্দ্রীক।
ছবিটিতে রাহুল(সোহম) ও গুঞ্জা(শুভশ্রী) তারা দুজনেই ছেলেবেলার বন্ধু।এমনকি একই পাড়ায় থাকার সূত্রে তাদের দুই পরিবারের মধ্যেও প্রথমদিকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখা যায় ।কিন্তু হঠাৎই উচ্চশিক্ষার জন্য রাহুল আমেরিকায় চলে যায় ।এদিকে রাহুলের বাবাও ব্যবসা রমরমিয়ে করায় তাদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা অনেক বেড়ে যায়। অন্যদিকে গুঞ্জা কলকাতায় বড় হয়ে ওঠা একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘরের মেয়ে , যে একটি অনাথ আশ্রমে চাকরি করে।ছবিটিতে প্রথম পর্বেই রাহুলের আমেরিকা থেকে ফিরে আসায় তার পরিবারের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ চোখে পড়বে দর্শকদের। রাহুল ছোটবেলা থেকেই কোনো ভুল কাজ করলে গুঞ্জা মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে হলেও তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।রাহুল বিদেশ থেকে ফিরে এসে গুঞ্জার সাথে দেখা করতে গেলে তাদের দুজনের মধ্যে একটু মান- অভিমানের পালা চলে।অবশেষে রাহুলের অনুরোধে গুঞ্জা রাজি হয় রাহুলের সাথে পানশালায় যেতে। কিন্তু রাহুল গুঞ্জাকে একটি পানশালায় নিয়ে গিয়ে সে অন্য মেয়েদের দেখে নিজেকে সামলাতে না পেরে গুঞ্জাকে সেখানে ফেলেই মেয়েটির  সাথে বেরিয়ে পড়ে।
 শুভশ্রী ও সোহম
রাহুল ফের বিপদের মুখে পড়ে এবং পরে রীতিমতো গুঞ্জাই তাকে উদ্ধার করে।এরকম অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে থাকে রাহুল  এবং সিনেমার চিত্রনাট্য অনুযায়ী গুঞ্জাই  প্রতিবার  পরিস্থিতি সামাল দেয়।কিন্তু গুঞ্জা একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সে রাহুলকে জানায় যে সে আর রাহুলকে কিছু সাহায্য করতে পারবে না।কখনো মিথ্যে বউ সেজে রাহুলকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করা আবার কখনও বা রাহুলকে বাঁচাতে তার নামে মিথ্যে কথা পর্যন্ত গুঞ্জাকে  বলতে হয়। কিন্তু একদিন রাহুলের সাথে রাস্তায় দেখা হয় একটি বাচ্চা ছেলের নাম বল্টু।এখানেই সমাপ্ত  সিনেমাটির   প্রথম ভাগ। এরপর থেকে বল্টু রাহুলকে ব্ল্যাকমেল করে বলে যে রাহুল যেন সকলকে তার ছেলে বলে।বল্টুর দেওয়া এই মিথ্যে আখ্যা নিয়ে রাহুলকে নানা হেনস্থার শিকার হতে হয় । কখনো বা তার পরিবারের অথবা কখনো রাস্তাঘাটে বল্টুর উপদ্রবের  হাত থেকে বাঁচবার উপায় হিসেবে রাহুল তাকে একটি অনাথ আশ্রমে পর্যন্ত দিয়ে আসে তিন মাসের জন্য।যদিও গুঞ্জাকে  কিছুদিন পরেই বল্টুকে আবার ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে দেখা যায়।গুঞ্জা যেহেতু একটি নম্র-ভদ্র স্বভাবের মেয়ে তাই রাহুল তাকে কিছু ক্ষেত্রে অপমান করলেও সে রাহুলকে সাহায্যের থেকে পিছু হটেনি।
অবশেষে বল্টুকে নিয়ে যখন রাহুলের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে,  তার বাবা যখন তাকে সব সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে তখন রাহুল তার ভুল কিছুটা হলেও বুঝতে পারে ও নিজেই অনুশোচনা করে।কিন্তু সেই মুহূর্তে সে খবর পায় যে গুঞ্জা নাকি চাকরি সূত্রে কোচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাহুল স্টেশনে পৌছালে গুঞ্জার ট্রেন ছেড়ে দেয় কিন্তু গুঞ্জা রাহুলকে দেখে ছেড়ে যেতে পারে না। ফলে সে ট্রেন থেকে নেমে পড়ে।সিনেমাটিতে শেষ দৃশ্যে রাহুল ও গুঞ্জার মিলন দর্শকদের মন জয় করেছে। বল্টুই  শেষ পর্যন্ত রাহুল ও গুঞ্জার মিলনের কাজটি অত্যন্ত  দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।

সিনেমাটিতে সঙ্গীত পরিচালক জিৎগাঙ্গুলি। সিনেমাটিতে প্রথম দৃশ্যের গান ‘ মেনোকা মাথায় দিল ঘোমটা’ দর্শকদের  ভালো লাগবে। বল্টুর দুষ্টুমিও দর্শকদের মুখে হাসি ফোটাবে। সিনেমাটিতে শুভশ্রীকে অন্যান্য ছবির তুলনায় অনেকখানি অভিনয় করতে দেখা গেছে। সিনেমাটিতে সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গাঙ্গুলি। সিনেমাটিতে প্রথম দৃশ্যের গান ‘ মেনোকা মাথায় দিল ঘোমটা’ দর্শকদের  ভালো লাগবে। বল্টুর দুষ্টুমিও দর্শকদের মুখে হাসি ফোটাবে। সিনেমাটিতে শুভশ্রীকে অন্যান্য ছবির তুলনায় অনেকখানি অভিনয় করতে দেখা গেছে।রাহুলের বাবার চরিত্রে যাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে  তিনি হলেন নীল।ছবিটির প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে নীল একজন বাবার ভূমিকা খুবই দায়িত্ব সহকারে পালন করে গেছেন। তাকে সিনেমাটিতে অন্যতম প্রধান ও শ্রেষ্ঠ চরিত্রে দেখা গেছে ,যে তার বিলেত ফেরত ছেলেকে নিয়ে একাধারে গর্বিত অন্যদিকে ছেলের ভুল কাজের শাসনও  করেন। মীর অসাধারণ হাস্যরসের দৃশ্যগুলো অনেক সময় বিখ্যাত অভিনেতাদের নকল করেও ফুটিয়ে তুলেছেন।

তাই আমার মনে হয় যারা কমেডি ছবি দেখতে ভালোবাসেন তাদের অবশ্যই দেখা উচিত এবং সপরিবারে মিলেই দেখার মতো একটি ছবি ’দেখ কেমন লাগে’
-মৌমিতা দাস

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *